আল্লাহর ডাক শুনতে পান নুরানি অন্তরের মানুষ


আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের বিষয়টি নুরানি অন্তর ছাড়া উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। মানুষ যেমন প্রিয়জনের সঙ্গ ছা?

.

আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের বিষয়টি নুরানি অন্তর ছাড়া উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। মানুষ যেমন প্রিয়জনের সঙ্গ ছাড়া একটি মুহূর্ত কাটাতে পারে না, তেমনি আল্লাহতায়ালাও মোমিন বান্দারে সঙ্গ ছাড়া একটি মুহূর্ত থাকতে পারেন না।

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন তিনি তোমাদের সঙ্গেই আছেন; তোমরা যা কিছ্ ুকরছ আল্লাহ পাক তার সব কিছুই দেখেন’। (সূরা হাদিদ : ৪)।

আর আল্লাহতায়ালা নবীদের মধ্যে থেকে হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে হাবিব বানিয়ে নিয়েছেন। হজরত ইবরাহিম (আ.)কে খলিল বলে সম্বোধন করেছেন। আবার হজরত মূসা (আ.)-এর সঙ্গে কথা বলার জন্য তুর পাহাড়ে ডেকে নিয়েছেন।

আল্লাহতায়ালা তার প্রিয় বান্দাদের এক মুহূর্তের জন্য চোখের আড়াল করতে চান না। তিনি বান্দার ডাকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কখন কোন বান্দা কি চায়, আল্লাহ তা নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

 

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমার কোনো বান্দা যখন আপনাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে (আপনি বলে দেবেন), আমি কাছেই আছি; আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিই যখন সে আমাকে ডাকে, তাই তাদেরও উচিত আমার আহ্বানে সাড়া দেয়া’। (সূরা বাকারা : ১৮৬)।

আল্লাহর চেয়ে বান্দার আপনজন আর কেউ নেই। সমগ্র সৃষ্টিই আল্লাহর পরিবারভুক্ত। আঠারো হাজার মাখলুকাতের মধ্যে কোনো অঞ্চলের মানুষ কী ধরনের খাবার খাবে, অন্য প্রাণীরা কি দিয়ে আহার করবে। তিনি তা ভিন্নভাবে বণ্টন করে দিয়েছেন।

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘জমিনের ওপর বিচরণশীল এমন কোনো জাতি নেই, যার জীবিকা (পৌঁছানোর দায়িত্ব) আল্লাহর ওপর নেই’। (সূরা হুদ : ৬)।

মানুষ দুনিয়াতে যেন বিপদে না পড়ে, পরকালের কথা যেন মেনে চলে, প্রত্যেক জাতিকে হেদায়াত দিতে প্রদর্শক বা মুর্শিদ দান করছেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহতায়ালা যাকে হেদায়াত দান করেন সে-ই একমাত্র হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন সে কখনও পথ প্রদর্শনকারী ও অভিভাবক পেতে পারে না’। (সূরা কাহাফ : ১৭)।

আল্লাহতায়ালা গোনাহগারদের ক্ষমা করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাকারী বান্দা খুঁজতে থাকেন।

হজরত আবু মুসা আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস আশয়ারী (রা.) বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা,) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় (কিয়ামত) না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাতে তার ক্ষমার হাত প্রসারিত করতে থাকেন। যাতে দিনের গোনাহগার তাওবা করতে পারে। আর তিনি দিনে তার ক্ষমার হাত প্রসারিত করতে থাকবেন, যাতে রাতের গোনাহগার তাওবা করতে পারে।’ (মুসনাদে আহমদ : ৩২/১৯৫২৯)।

হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তখন আমাদের প্রভু পরওয়ারদেগার দুনিয়ার কাছের আসমানে এসে বলতে থাকেন, ওগো! কে আছ, যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে দিয়ে দেব। ওগো! কে আছ, যে এ সময় আমার কাছে গোনাহ থেকে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বোখারি : ১১৪৫)।

যারা নিজের আত্মাকে কলুষিত করেছে তাদের খোঁজখবরও আল্লাহতায়ালা রাখেন। তাদের তিনি বাদ দেননি। তাদের ওপরও বৃষ্টি বর্ষণ করেন। আল্লাহতায়ালা ওইসব বান্দাদেরও তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার বান্দারা! যারা নিজের প্রতি অবিচার করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সূরা আল-ইমরান : ১৩৯)।

সুতরাং আমরা যদি ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করি। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের পাপ ক্ষমা করে । আমাদের খোঁজ নেবেন।